Study in China Part 1

STUDY IN CHINA



শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে উৎকণ্ঠা মাখা সময়, ফলাফল প্রকাশের সময় ৷  এইচ এস সি পরীক্ষার্থী সে সকল স্বপ্ন সারথিদের বিগত ১৮ বছরের উৎকণ্ঠা  আর প্রতিক্ষার   অবসান হয়ে গেছে ফলাফলের ক্ষেত্রে, কিন্তু ভবিষ্যতের যে  লালিত স্বপ্ন সেটির অবসানেই আজকের এই আয়োজন । জীবনের যে সিদ্ধান্তগুলো এসএসসি'র পর নেয়া যায়না, সেসব সিদ্ধান্ত  এখন অনায়াসেই নেয়ার সময় এসেছে
 জীবনের মহা গুরুত্বপূর্ণ এই ফলাফল প্রাপ্ত সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা।
 ক্যারিয়ার, লক্ষ্য এবং বাস্তবতা এ সকল অধ্যায়ের সূচনা লগ্ন এখন।
 একটা সময় পেরিয়ে গেছে যখন আমরা ভাবতাম পৃথিবীতে দেশ আছে মাত্র দুটো,
" বাংলাদেশ আর বিদেশ"!😊

 ব্যাপারটা যতটা হাস্যরসের ততটাই আমাদের অজ্ঞতা আর সীমাবদ্ধতার। সে সময়টা অতিসম্প্রতি যেন পাল্টে গেছে,  যদিও জাতি হিসেবে অনেক দেশ, শিক্ষা, সমৃদ্ধি, কাঠামো, দক্ষতা আর উন্নতি থেকে আমরা রয়ে গেছি শত শত বর্ষ পেছনে।
কবি নজরুলের ভাষায়,
 "থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে,
 দেখব এবার জগৎটাকে।
 কেমন করে ঘুরছে মানুষ, যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে"।
 নজরুল যদি এত পূর্বে অনুধাবন করতে পারেন আমরা না হয় আজ থেকে শুরু করলাম?
 এইচএসসি পরীক্ষার্থী সকল কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্নীল এক ভবিষ্যৎ পথের নির্দেশনা নিয়ে আজ থাকছে আগামীর যাত্রার আদ্যোপান্ত  বিবরণ।

বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে পৃথিবীর অন্যতম এক দেশের নাম চীন।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে চীন শিক্ষাদীক্ষায় কতটা সমৃদ্ধ সেটা আশা করি আলাদা ভাবে বুঝাতে হবে না।  তবে আজ আমরা পরিস্কার ভাবে জানবো কেন চীনে পড়তে যাব এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ থেকে চীনে গিয়ে পড়ার সামর্থ্য রাখে কিনা, সে বিষয়ে।
 বাংলাদেশে ভালো ভার্সিটি যেগুলো আছে পাবলিক বা প্রাইভেট সেখানে প্রতি বছর শিক্ষার্থী তুলনায় কতজন পড়তে পারে?
 সেখানে সিট বিবেচনা এবং ভর্তি পরীক্ষায় কত জন মেধাবীকে জায়গা দেয়া যায়?

 লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর বাকিরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কখনো এখানে, কখনো সেখানে এভাবে করেই  তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আলোটা অচিরেই নিভিয়ে দেয়।
 আমরা বলছি না সেখানে পড়াশোনা করা যাবে না,  শুধু পার্থক্যটা দেখাচ্ছি।  যে, নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগে অন্তত একবার চীনে পড়াশোনা যায় কিনা ভেবে দেখবেন?

 ⏩খরচ (বাংলাদেশ) ঃ ঢাকার হিসেবে আমরা যদি হিসেব করি, প্রতিটি ছাত্রের থাকা বাবদ মাসিক সর্বনিম্ন ৩০০০ টাকা লাগে সে হিসেবে বছরে ৩৬,০০০ আর সেটা চার বছরে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকায়।  খাবারের জন্য মাসিক ২৫০০ টাকা এখানে হরহামেশাই দিতে হয়,  যা বছরে ৩০ হাজার এবং ৪ বছরে দাঁড়ায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়।
 💠এবার আসি ভার্সিটিতেঃ একটি মোটামুটি মানের প্রাইভেট ভার্সিটির এডমিশন ফি কত জানেন?
🔶৪০-৫০ হাজার টাকা!
 টিউশন ফি?
 সেমিস্টার প্রতি ৬৫-৭০  হাজার টাকা!  এই হিসেবে ৪ বছরে ১০-১২ সেমিস্টারে আসে ৬-৭ লক্ষ  টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে কমবেশী ৮ লক্ষ টাকাও হতে পারে।
 তাহলে থাকা + খাওয়া + ভার্সিটি ফিস বাবদ ১০ লাখেরও বেশি খরচ হচ্ছে!!
বাংলাদেশের কতজন মানুষের পক্ষে এই খরচে পড়া সম্ভব?
আর দেশীয় বিবেচনায় আরেকটু ভালো মানের ভার্সিটি  হলে সেটা ১৫-২০ লাখেও পৌছে যায়। আচ্ছা যেখানে এত টাকা শুধু ৪ বছরের কোর্সেই দেয়া লাগে সেখানে নিশ্চয়ই এমন কিছু পড়ানো হয় যেটাতে বিশ্বকে তাক লাগানো যেতে পারে??
 আমি জানিনা বিশ্ব রেংকিং- এ কত তম স্থানে আছে সে সব ভার্সিটি?
কেউ জানলে জানাবেন প্লিজ।

খরচ (চীন)ঃ বিশ্ব রেংকিং এ ১০০০ এর  মধ্যে থাকা কমপক্ষে ১০০ ভার্সিটিতে চীনে খরচ কেমন পরে  জানেন?
 আপনার এসএসসি +এইচএসসি রেজাল্ট ভালো হলে চার বছরের জন্য টিউশন + থাকা একদম ফ্রি!!

চোখ কপালে উঠে গেল?  এটা নিত্যনৈমিত্তিক বাস্তব এখানে।
খাবারের জন্য বাংলাদেশে যা লাগে চীনেও  প্রায় কাছাকাছি পরে কিছু কম বেশী হতে পারে। ভাবতে পারছেন যানজট, গাড়ির হর্ণ, ধুলাবালি ছেড়ে  ঝকঝকে - তকতকে শহর, ক্যাম্পাস আর সহজ সরল জীবন পাওয়া সম্ভব তাও দেশের চেয়ে কম খরচে।
 এবার আসুন আপনার এসএসসি, এইচএসসির রেজাল্ট তুলনামূলক কম (ন্যূনতম ৭),  যেটার জন্য আপনি  কিছু কিছু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও আবেদন করার ক্ষমতা রাখেন না, তেমন হলে চীনে রয়েছে পার্শিয়াল স্কলারশিপের সুযোগ ।
ভার্সিটির খরচ (টিউশন ফিস) আর থাকা বাবদ (হোস্টেল খরচ) বছরে  ৫০০০CNY-৭০০০CNY (৬৫০০০-৯১,০০০টাকা) যা ৪ বছরে ২০,০০০-২৮,০০০CNY(২,৬০,০০০-৩,৬৪,০০০টাকা), খাবার জন্য ধরুন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা(৪ বছরে),
 মোট?
 🔷৩,৮০,০০০-৪,৮৪,০০০ টাকা ফুল কোর্স!
(কিছুটা কম বেশি)।

এখন কি পরিষ্কার বুঝতে পারছেন যেখানে ১০ লাখ টাকার বেশি দিয়ে মোটামুটি একটা ভার্সিটিতে পড়তে পারছেন,  বিপরীতে তার এক-তৃতীয়াংশ খরচে পৃথিবী খ্যাত বিভিন্ন ভার্সিটিতে পড়তে পারছেন।
উপরন্তু প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস, কাজ, ল্যাব, লাইব্রেরি ফেসিলিটি সহ অত্যাধুনিক সব সুযোগতো আছেই।

 🚨 আপনার পছন্দের বিষয় পাওয়াও এখানে (বাংলাদেশ) এক ধুম্রজাল! সিরিয়াল নিয়ে আসতে আসতে আপনার ভাগ্যে যা আছে তাই পড়তে হবে; তাহলে নিজের, পরিবারের লালিত স্বপ্ন আর প্রত্যাশার বাস্তবায়না কিভাবে করা যায়?
পক্ষান্তরে,  চীনে আপনি আপনার পছন্দের বিষয় নিয়ে অনায়াসে আপনার স্বপ্ন সিঁড়ি চুম্বন করতে পারেন। দক্ষ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা যে কোন ব্যক্তিই জাতি ও বিশ্বের জন্য কল্যাণকর।
👉ক্যারিয়ারঃ  আমাদের চোখের সামনেই মূলত আমরা দেখি এখানে ক্যারিয়ার কেমন!  সরকারি চাকরি পদ্ধতি আর প্রাইভেট চাকরির অপ্রতুলতায় অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা "মুকুলেই ছিন্ন" হয় এখানে।
 পক্ষান্তরে চীন থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা একজনের ক্যারিয়ার আর বাংলাদেশি ভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট এর ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে শিক্ষিত সমাজ খুব সাবলীলভাবেই তা অনুধাবন করতে পারেন।
 বিশেষত চাইনিজ ভাষায় যদি আপনি পড়তে পারেন আপনার স্কিল অনুযায়ী চোখ বুঝে মাসিক কমপক্ষে  ১ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি পাওয়া সম্ভব,  ইংরেজিতে পড়লেও বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে রয়েছে মাসিক ৫০-৭০ হাজার টাকা  ন্যূনতম বেতনে চাকরি।

 যারা অতি সম্প্রীতি ফলাফল পেয়েছেন তাদের মধ্যে সবাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা ভালো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সম্ভব হবে না, হতাশার কিছু নেই.

 💬 অভিভাবকদের উদ্দেশ্যেঃ সময় এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলার, এখন পিছিয়ে পড়লে আপনাদের সন্তানের বর্ণিল সম্ভাবনা হতে পারে বর্ণহীন। আপনার অল্প অল্প করে ভেবে রাখা সব আশা আর ইচ্ছের বহিঃপ্রকাশের জন্য সেরা কে বেছে নেয়ার সময় এসেছে।


Azmat Hossain
Civil & Construction Engineering
Yunnan University, 

Comments

Popular posts from this blog

Road To MIT

বিভিন্ন রসায়নিক সংকেত ও নাম

তারার মেলা